২০১২–১৩ মরশুম নিয়ে লিখতে গিয়ে একটা প্রশ্নে এসে থেমেছিলাম।
একজন ফুটবলার একই সঙ্গে কতগুলো আক্রমণাত্মক দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে পারেন?
Messi তখন গোল করছেন।
গোল তৈরি করছেন।
মাঝমাঠে নেমে বল নিচ্ছেন।
ডিফেন্ডার কাটাচ্ছেন।
আবার পেনাল্টি বক্সে পৌঁছে আক্রমণ শেষ করছেন।
২০১২ সালের ৯১ গোলের রেকর্ড এবং পরের মরশুমে ৪৬টি লিগ গোল যেন বুঝিয়ে দিয়েছিল—এই ফুটবলারের সীমা কোথায়, সেটা বোঝাই কঠিন।
কিন্তু ফুটবলে একটা জিনিস কখনও স্থায়ী নয়।
শরীর।
আরেকটা জিনিসও নয়।
একটা দলের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব।
২০১৩–১৪ মরশুমে Messi এই দুই বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন।
Guardiola নেই।
Tito Vilanova-ও নেই।
নতুন কোচ Gerardo ‘Tata’ Martino।
দলে এসেছেন Neymar।
অন্যদিকে Diego Simeone-র Atlético Madrid এমন এক রক্ষণাত্মক কাঠামো তৈরি করেছে, যেটা Barcelona-র পরিচিত আক্রমণকে বারবার আটকে দিচ্ছে।
আর Messi?
তিনি এখনও অসাধারণ।
কিন্তু আগের মতো সব সময় নিজের শরীরকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।
আমার কাছে এই মরশুম তাই Messi-র পতনের গল্প নয়।
এটা সেই সময়ের গল্প, যখন তাঁর পুরোনো অস্ত্রগুলো এখনও আছে, কিন্তু সেগুলো ব্যবহারের শর্ত বদলাতে শুরু করেছে।
১. TATA MARTINO — GUARDIOLA-র পরের BARCELONA
Tata Martino-র Barcelona-কে বুঝতে হলে প্রথমেই একটা ভুল ধারণা সরাতে হবে।
তিনি এসে Barcelona-র পাসিং ফুটবল ধ্বংস করে দেননি।
Xavi আছেন।
Iniesta আছেন।
Busquets আছেন।
Messi আছেন।
দলের মূল ফুটবলীয় শিক্ষা একই।
কিন্তু Martino কিছু পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন।
প্রয়োজনে আরও সরাসরি আক্রমণ।
বল পাওয়ার পরে দ্রুত সামনে যাওয়া।
প্রতিপক্ষকে শুধু ছোট পাস দিয়ে নয়, লম্বা পাস ও দ্রুত দৌড় দিয়েও আক্রমণ করা।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।
Guardiola-র সেরা Barcelona অনেক সময় প্রতিপক্ষকে দীর্ঘক্ষণ বলের পিছনে দৌড় করিয়ে তার রক্ষণাত্মক অবস্থান বদলে দিত।
Martino কিছু পরিস্থিতিতে সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির সময় কমাতে চাইছিলেন।
এটা নিজে থেকে খারাপ চিন্তা নয়।
বরং প্রতিপক্ষ যখন Barcelona-র পরিচিত খেলা বুঝতে শুরু করেছে, তখন আক্রমণের অন্য রাস্তা দরকার।
কিন্তু সমস্যা হলো—
নতুন পথ যোগ করা আর পুরোনো পথের নিখুঁত সমন্বয় ধরে রাখা এক জিনিস নয়।
Barcelona সেই সমন্বয় খুঁজছিল।
আর Messi-র নিজের শরীরও তখন পরিবর্তনের মধ্যে।
২. NEYMAR — MESSI প্রথমবার নতুন ধরনের একজন সঙ্গী পেলেন
২০১৩ সালের গ্রীষ্মে Neymar এলেন।
এটা Messi-র ভবিষ্যৎ বিবর্তনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ Neymar শুধু গোল করার জন্য আসেননি।
তিনিও বল পায়ে ডিফেন্ডার কাটাতে পারেন।
ছোট জায়গায় দিক বদলাতে পারেন।
একজনের বিরুদ্ধে একজনের লড়াইয়ে বিপজ্জনক।
নিজে আক্রমণ তৈরি করতে পারেন।
অর্থাৎ Barcelona এমন একজন খেলোয়াড় পেল, যিনি Messi ছাড়াও ব্যক্তিগত দক্ষতায় রক্ষণ ভাঙতে পারেন।
কিন্তু এখানেও একটা প্রশ্ন।
Messi এবং Neymar দুজনেই বল পায়ে চাইলে তাঁদের কীভাবে ব্যবহার করা হবে?
Messi মাঝখানে।
Neymar বাঁদিকে।
দুজনেরই ভিতরের দিকে আসার প্রবণতা।
তাই সঠিক সময়ে একজনকে চওড়া জায়গায় থাকতে হবে।
অন্যজন ভিতরে আসবেন।
একজন ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টানবেন।
অন্যজন সেই ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করবেন।
এই সম্পর্ক তখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
আমার কাছে ২০১৩–১৪ ছিল Messi–Neymar সম্পর্কের প্রথম পরীক্ষাগার।
সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু পূর্ণ সমন্বয় তখনও তৈরি হয়নি।
৩. MESSI-র অবস্থান — FALSE 9-এর সীমাবদ্ধতা এবার স্পষ্ট
Guardiola-র সময় false 9 ছিল একটা অসাধারণ কৌশলগত আবিষ্কার।
Messi মাঝখান থেকে নিচে নামছেন।
Centre-back তাঁকে অনুসরণ করলে পিছনে জায়গা।
অনুসরণ না করলে Messi মাঝমাঠের সামনে বল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন।
কিন্তু ২০১৩–১৪-তে প্রতিপক্ষ আর এই movement দেখে অবাক হচ্ছে না।
তারা জানে Messi কোথায় আসতে চান।
কোন পায়ে বল নিতে চান।
কোন দিক দিয়ে ঘুরতে চান।
কার সঙ্গে ছোট পাস খেলতে চান।
ফলে Messi-র জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।
এখানে একটা ব্যাপার মনে রাখা দরকার।
কোনও কৌশল যত সফল হয়, প্রতিপক্ষ সেটাকে আটকানোর প্রস্তুতিও তত ভালোভাবে নেয়।
Messi-র false 9 ভূমিকাও তার ব্যতিক্রম নয়।
৪. MESSI-র বিরুদ্ধে এখন DEFENDER-রা কী করছে?
ধরুন Messi মাঝখানে বল নিতে নামলেন।
আগের মতো centre-back তাঁকে অনুসরণ করতেই হবে—এমন নয়।
Centre-back নিজের জায়গায় থাকলেন।
Defensive midfielder Messi-র দিকে এগোলেন।
পাশের midfielder ভেতরের পাসের রাস্তা বন্ধ করলেন।
আরেকজন defender পিছনে প্রস্তুত।
এখন Messi বল পেলেও—
ঘুরতে পারবেন?
সামনে দৌড়াতে পারবেন?
ছোট পাস দিয়ে আবার বল ফেরত পাবেন?
এই তিনটি প্রশ্নের উত্তরই কঠিন।
কারণ প্রতিপক্ষ শুধু Messi-কে আটকাচ্ছে না।
Messi বল পাওয়ার পরে যে কাজটা করতে চান, সেটাকেও আটকাচ্ছে।
এটাই রক্ষণাত্মক পরিকল্পনার পরিণত রূপ।
৫. ATLÉTICO MADRID — SIMEONE-র সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
এই মরশুমে Messi-র বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ আমার কাছে Atlético Madrid।
Diego Simeone-র দল।
খুব সংগঠিত।
খুব পরিশ্রমী।
রক্ষণ এবং মাঝমাঠের দূরত্ব কম।
দুই পাশের খেলোয়াড়ও প্রয়োজনে নিচে নেমে আসছেন।
মাঝখানের রাস্তা বন্ধ।
কিন্তু শুধু নিচে বসে থাকা নয়।
সুযোগ পেলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ।
এখানেই Atlético-র শক্তি।
তারা Barcelona-কে বল রাখতে দিতে পারে।
কিন্তু বিপজ্জনক জায়গায় বল নিতে দিতে চায় না।
আমার কাছে Simeone-র কৌশলের মূল কথা ছিল—
Messi-কে সব সময় অনুসরণ করার দরকার নেই। তাঁর যাওয়ার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দাও।
৬. ATLÉTICO কেন এত কঠিন প্রতিপক্ষ?
কারণ তাদের রক্ষণ শুধু একজন defender-এর উপর নির্ভর করে না।
একজন এগোলে অন্যজন তাঁর জায়গা নেন।
একজন Messi-র দিকে গেলে আরেকজন ভিতরের রাস্তা বন্ধ করেন।
Full-back একা পড়ে গেলে midfielder সাহায্য করেন।
এখানে Messi-র একটা বড় অস্ত্র কিছুটা কম কার্যকর হয়ে যায়।
তিনি সাধারণত একজন defender-কে নিজের দিকে টেনে অন্য জায়গায় ফাঁক তৈরি করেন।
কিন্তু Atlético-র রক্ষণে সেই ফাঁক দ্রুত অন্য খেলোয়াড় পূরণ করছেন।
অর্থাৎ—
Messi একজনকে নিজের জায়গা থেকে সরালেও Atlético পুরো রক্ষণকে ভেঙে পড়তে দিচ্ছে না।
এটাই সমষ্টিগত রক্ষণের সাফল্য।
৭. MESSI-র DRIBBLING — কেন এবার আগের মতো সব সময় কাজ করছে না?
Messi-র dribbling-এর মূল অস্ত্রগুলো আগের মতোই।
ছোট ছোট স্পর্শ।
নিচু ভারকেন্দ্র।
শরীরের ছলনা।
বলকে পায়ের খুব কাছে রাখা।
হঠাৎ গতি বাড়ানো।
কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।
Messi-র dribbling শুধু তাঁর পায়ের দক্ষতা নয়।
এটা শরীর এবং বলের অসাধারণ সমন্বয়।
তিনি ছোট স্পর্শে defender-কে কাছে আনেন।
তারপর হঠাৎ গতি বাড়িয়ে বেরিয়ে যান।
কিন্তু যদি সেই বিস্ফোরক গতি সাময়িকভাবে কমে যায়?
তাহলে defender-এর সুবিধা বাড়ে।
তিনি Messi-র আরও কাছে দাঁড়াতে পারেন।
আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে tackle করতে পারেন।
দ্বিতীয় defender-ও সময় পান।
অর্থাৎ Messi-র acceleration কমলে শুধু তাঁর দৌড় কমে না—dribbling-এর কার্যকারিতাও প্রভাবিত হয়।
২০১৩–১৪-তে চোটের কারণে এই সমস্যাটা বারবার সামনে এসেছে।
৮. NOVEMBER 2013 — চোটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা
নভেম্বর মাসে Real Betis-এর বিরুদ্ধে Messi আবার hamstring injury-তে পড়লেন।
তাঁকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হলো।
এটা আগের মরশুমের শেষের চোটের ধারাবাহিকতার মধ্যেই দেখতে হবে।
Messi-র খেলায় বারবার ছোট দূরত্বে দ্রুত দৌড়ানো, থামা এবং দিক পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়।
এই ধরনের খেলায় পেশির সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ফিরে আসার পর শুধু দৌড়াতে পারলেই যথেষ্ট নয়।
পুরো গতিতে দৌড়ানোর আত্মবিশ্বাসও দরকার।
একজন ফুটবলার যদি মনে করেন, পরের বিস্ফোরক দৌড়ে আবার চোট লাগতে পারে, তাহলে তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে।
তবে Messi ঠিক কতটা সতর্ক হয়ে খেলছিলেন, সেটা বাইরে থেকে নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়।
যেটা বলা যায়—
চোটের কারণে তাঁর খেলার ধারাবাহিকতা এবং স্বাভাবিক ছন্দ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
৯. MESSI ছাড়া BARCELONA — একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
এখানে আগের মরশুমের সঙ্গে একটা পার্থক্য আছে।
২০১২–১৩-তে PSG-র বিরুদ্ধে আহত Messi-কে নামানোর পরে Barcelona-র আক্রমণের চেহারা বদলে গিয়েছিল।
কিন্তু ২০১৩–১৪-তে Messi অনুপস্থিত থাকলেও কিছু ম্যাচে Barcelona গোল করেছে, জিতেছে।
Neymar আছেন।
Pedro আছেন।
Alexis Sánchez আছেন।
Cesc Fàbregas আছেন।
তাঁরা আক্রমণের দায়িত্ব নিতে পারেন।
তাই Barcelona পুরোপুরি অচল হয়ে যায়নি।
কিন্তু একটা পার্থক্য রয়ে গেছে।
Messi ছাড়া Barcelona গোল করতে পারছে—এটা এক কথা।
Messi ছাড়া Barcelona একইভাবে প্রতিপক্ষের রক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে—এটা অন্য কথা।
এই দুটোকে এক করে দেখলে চলবে না।
১০. MESSI-র GOALSCORING কি সত্যিই কমে গিয়েছিল?
সংখ্যা দেখলে বড় পার্থক্য।
২০১১–১২: ৭৩ গোল।
২০১২–১৩: ৬০ গোল।
২০১৩–১৪: ৪১ গোল।
La Liga-তে ২৮ গোল।
মোট ৪৬টি official club match।
অর্থাৎ আগের দুই মরশুমের তুলনায় গোলসংখ্যা স্পষ্টভাবে কমেছে।
কিন্তু ৪১ গোল কি খারাপ?
অবশ্যই নয়।
বরং অধিকাংশ অসাধারণ forward-এর জন্যও এটা দুর্দান্ত মরশুম।
এখানে আসল কথা—
Messi নিজের তৈরি করা অস্বাভাবিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনায় পিছিয়ে পড়েছেন।
সাধারণ মানদণ্ডে নয়।
১১. MESSI-র FINISHING এখনও অসাধারণ
এই মরশুমেও Messi-র finishing-এর বৈচিত্র্য ছিল।
বাঁ পায়ে নিচু shot।
Goalkeeper-এর পাশ দিয়ে বল পাঠানো।
একজন defender কাটিয়ে finish।
Free-kick।
Penalty।
ছোট জায়গায় বল পেয়ে দ্রুত shot।
তাঁর সবচেয়ে বড় গুণটা এখনও অক্ষত।
গোল করার আগে তিনি পরিস্থিতিটা খুব দ্রুত পড়তে পারেন।
Goalkeeper কোথায়?
Defender কোন দিক বন্ধ করছেন?
কতটা জোরে মারতে হবে?
একটু অপেক্ষা করবেন?
নাকি সঙ্গে সঙ্গে shot?
Messi-র finishing অনেক সময় শুধু পায়ের দক্ষতা নয়।
এটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা।
এই ক্ষমতা চোটের কারণে পুরো হারিয়ে যায়নি।
১২. MANCHESTER CITY — MESSI এখনও বড় ম্যাচের খেলোয়াড়
Champions League-এর শেষ ষোলোয় Manchester City।
প্রথম leg-এ Messi penalty থেকে গোল করলেন।
Barcelona জিতল ২–০।
দ্বিতীয় leg-এও Messi গোল করলেন।
Barcelona ২–১ জিতল।
দুই leg মিলিয়ে ৪–১।
এই ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ এগুলো দেখায়—
২০১৩–১৪-তে Messi সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েননি।
তিনি এখনও বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পার্থক্য তৈরি করতে পারেন।
সমস্যাটা তাঁর সামর্থ্য শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
সমস্যা ছিল সেই সামর্থ্য আগের মতো ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করতে না পারা।
১৩. ATLÉTICO-র বিরুদ্ধে CHAMPIONS LEAGUE — সমস্যাটা আরও স্পষ্ট
Quarter-final।
প্রথম leg Camp Nou।
Barcelona 1–1 Atlético।
দ্বিতীয় leg Madrid।
Atlético 1–0 Barcelona।
Aggregate 2–1।
Barcelona বাদ।
এখানে Atlético-র পরিকল্পনা খুব পরিষ্কার।
মাঝখান সংকুচিত।
Messi-র বল পাওয়ার জায়গা কম।
বল পেলেও পরের আক্রমণের রাস্তা কঠিন।
দ্বিতীয় defender প্রস্তুত।
পাশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে combination-এর সুযোগ সীমিত।
এখানে Messi-র individual brilliance যথেষ্ট হলো না।
কিন্তু এটাকে শুধু Messi-র ব্যর্থতা বললে ভুল হবে।
কারণ Barcelona-র পুরো আক্রমণই Atlético-র সংগঠিত রক্ষণের বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়েছিল।
আমার কাছে এই দুই ম্যাচ একটা বড় প্রশ্ন তুলে দেয়—
যখন প্রতিপক্ষ Messi-র পরিচিত central route বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন Barcelona-র বিকল্প রাস্তা কতটা কার্যকর?
১৪. ATLÉTICO বনাম INTER 2010 — মিল আছে, কিন্তু এক নয়
এখানে আগের লেখার সঙ্গে একটা সংযোগ টানতে চাই।
২০১০ সালে Mourinho-র Inter Messi-র চারপাশের জায়গা বন্ধ করেছিল।
২০১৪ সালে Simeone-র Atlético-ও মাঝখানের জায়গা বন্ধ করছে।
কিন্তু দুই দল একইভাবে খেলেনি।
Inter-এর রক্ষণাত্মক অবস্থান, পাল্টা আক্রমণের ধরন এবং দুই leg-এর পরিস্থিতি আলাদা।
Atlético অনেক বেশি ধারাবাহিকভাবে ছোট দূরত্ব বজায় রেখে দলগত চাপ তৈরি করছিল।
তবে মূল শিক্ষাটা কাছাকাছি।
Messi-কে শুধু একজন defender দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলে বিপদ।
তাঁর চারপাশের জায়গা এবং পাসের রাস্তা একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
আর সেটা করতে পারলে Messi-র প্রভাব কমানো সম্ভব।
১৫. MESSI-র WALKING — এখানে একটা সূক্ষ্ম বিষয় আছে
Messi-র হাঁটা নিয়ে পরে অনেক আলোচনা হয়েছে।
কিন্তু ২০১৩–১৪-এর হাঁটাকে সরাসরি তাঁর পরবর্তী সময়ের পরিণত কৌশলগত হাঁটার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।
Messi আগে থেকেই অনেক সময় ধীরে চলতেন।
খেলা দেখতেন।
জায়গা খুঁজতেন।
হঠাৎ গতি বাড়াতেন।
এটা তাঁর ফুটবলের পুরোনো অংশ।
কিন্তু এই মরশুমে চোটের সমস্যাও ছিল।
তাই কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচে তাঁর কম দৌড়ানো দেখে নিশ্চিত বলা যায় না—
এটা পুরোপুরি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, নাকি শারীরিক সীমাবদ্ধতার প্রভাব।
দুটোই ভূমিকা রাখতে পারে।
আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো—
Messi-র ভবিষ্যৎ বিবর্তনে কম দৌড়ে বেশি প্রভাব তৈরির দক্ষতা ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কিন্তু ২০১৩–১৪-তেই সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল—এমন দাবি করা ঠিক হবে না।
১৬. COPA DEL REY FINAL — আরেকটা ধাক্কা
Real Madrid বনাম Barcelona।
Copa del Rey final।
Barcelona 1–2 হারল।
Gareth Bale-এর সেই বিখ্যাত দৌড় এবং winning goal।
এখানেও Messi decisive হতে পারলেন না।
এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মরশুমের শেষ দিকে Barcelona একের পর এক বড় ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না।
Atlético-র বিরুদ্ধে Champions League থেকে বিদায়।
Real Madrid-এর বিরুদ্ধে Copa final হার।
এবার বাকি La Liga।
আর সেখানেও সামনে Atlético।
১৭. LA LIGA-র শেষ ম্যাচ — MESSI-র সামনে SIMEONE আবার
১৭ মে ২০১৪।
Camp Nou।
Barcelona বনাম Atlético Madrid।
শেষ ম্যাচ।
Barcelona জিতলে champion।
Atlético draw করলেই champion।
Alexis Sánchez অসাধারণ goal করলেন।
Barcelona 1–0 এগিয়ে।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে Diego Godín header করে সমতা ফেরালেন।
1–1।
Atlético champion।
Barcelona দ্বিতীয়।
এই ম্যাচে Messi-র একটি goal offside-এর জন্য বাতিল হয়েছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ম্যাচের ফল বদলাতে পারেননি।
এখানে আবার একই সমস্যা।
Atlético-র সংগঠিত রক্ষণ।
মাঝখানের জায়গা বন্ধ।
Barcelona-র possession থাকলেও যথেষ্ট কার্যকর আক্রমণ তৈরি হচ্ছে না।
আমার কাছে এই ম্যাচটা শুধু title হারানোর গল্প নয়।
এটা Guardiola-পরবর্তী Barcelona-র একটা অধ্যায় শেষ হওয়ার প্রতীক।
১৮. তাহলে MESSI কি খারাপ খেলেছিলেন?
আমার উত্তর—না, এত সহজ নয়।
৪৬ ম্যাচে ৪১ গোল।
Champions League-এ ৮ গোল।
La Liga-তে ২৮ গোল।
এগুলো একজন দুর্দান্ত ফুটবলারের সংখ্যা।
কিন্তু Messi-র ক্ষেত্রে সমস্যা অন্য জায়গায়।
তাঁর আগের কয়েক বছরের প্রভাব এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে আমরা শুধু গোলসংখ্যা নয়, প্রতিটা ম্যাচের উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণও দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম।
২০১৩–১৪-তে সেই নিয়ন্ত্রণ সবসময় দেখা যায়নি।
চোট ছিল।
দলের কৌশলগত পরিবর্তন ছিল।
প্রতিপক্ষের উন্নত রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা ছিল।
আর Barcelona-র সমষ্টিগত ছন্দও আগের মতো ছিল না।
তাই আমার কাছে এটা—
Messi-র প্রতিভা কমে যাওয়ার মরশুম নয়।
Messi-র প্রতিভাকে আগের মতো ব্যবহার করা ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠার মরশুম।
১৯. NEYMAR-কে নিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
এই মরশুমের একটা ইতিবাচক দিক Neymar।
Messi প্রথমবার এমন একজন তরুণ আক্রমণসঙ্গী পেলেন, যিনি নিজেও রক্ষণ ভাঙতে পারেন।
বাঁদিক থেকে ভিতরে আসতে পারেন।
বল পায়ে রাখতে পারেন।
ছোট পাস খেলতে পারেন।
Goal করতে পারেন।
অর্থাৎ ভবিষ্যতে Barcelona চাইলে Messi-র উপর থেকে কিছু আক্রমণাত্মক দায়িত্ব ভাগ করে দিতে পারে।
কিন্তু তখনও একটা সমস্যা।
দুজনের সঙ্গে এমন একজন কেন্দ্রীয় forward দরকার, যিনি নিয়মিত রক্ষণের পিছনের জায়গা আক্রমণ করবেন।
Centre-back-দের ব্যস্ত রাখবেন।
Messi নিচে নামলে সামনে জায়গা পূরণ করবেন।
এই সমস্যার সমাধান পরের মরশুমে আরও স্পষ্ট হবে।
কারণ আসবেন—
Luis Suárez।
২০. MESSI-র ভবিষ্যৎ কেন RIGHT SIDE-এ?
এখানেই আমার কাছে ২০১৩–১৪-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শিক্ষা।
Messi-কে সবসময় central false 9 হিসেবে ব্যবহার করলে প্রতিপক্ষ তাঁর বল পাওয়ার অঞ্চল সম্পর্কে প্রস্তুতি নিতে পারে।
কিন্তু Messi যদি ডানদিক থেকে শুরু করেন?
তাহলে অন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সামনে full-back।
ভিতরে midfielder।
আর মাঝখানে যদি একজন প্রকৃত centre-forward থাকেন, তাহলে centre-back-রা তাঁকে ছেড়ে Messi-র দিকে সহজে আসতে পারবেন না।
Messi ডানদিক থেকে ভিতরে ঢুকবেন।
তাঁর সামনে অনেকগুলো সম্ভাবনা—
নিজে dribble।
ভিতরে pass।
Centre-forward-কে through ball।
বাঁদিকে Neymar-কে diagonal pass।
অথবা নিজেই goal-এর দিকে।
অর্থাৎ—
Messi-কে আবার ডানদিকে নেওয়া মানে তাঁকে পুরোনো winger বানানো নয়।
বরং ডানদিক থেকে পুরো আক্রমণ পরিচালনার নতুন স্বাধীনতা দেওয়া।
এই চিন্তাটাই ২০১৪–১৫-তে অসাধারণভাবে কাজে লাগবে।
২১. শরীর বদলালে FOOTBALL-ও বদলাতে হবে
Messi-র সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই।
২০০৬–০৭ Messi অনেকটা নিজের বিস্ফোরক গতি দিয়ে defender কাটাতেন।
২০০৮–১১ Messi সেই গতি এবং Guardiola-র positional football একসঙ্গে ব্যবহার করলেন।
২০১১–১৩ Messi goal এবং playmaking-এর দায়িত্ব একসঙ্গে নিয়ে গেলেন প্রায় অসম্ভব পর্যায়ে।
কিন্তু ২০১৩–১৪ দেখাল—
শরীর সবসময় একই থাকবে না।
তাহলে?
আরও ভালোভাবে খেলা পড়তে হবে।
কখন দৌড়াবেন সেটা বেছে নিতে হবে।
বল পাওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রথম স্পর্শ দিয়ে পরের action-এর সুবিধা তৈরি করতে হবে।
পাসের পরিধি বাড়াতে হবে।
নিজে সব আক্রমণ শেষ না করে অন্যদের দিয়ে শেষ করাতে হবে।
এখানে একটা কথা আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।
একজন great dribbler defender-কে হারাতে জানেন।
একজন great playmaker defender কোথায় থাকবে, সেটাকেও প্রভাবিত করতে পারেন।
Messi-র ভবিষ্যৎ ক্রমশ দ্বিতীয় দিকটাকে আরও বড় করে তুলবে।
২২. SUCCESS এবং FAILURE — দুটোই দেখতে হবে
এই মরশুমে Messi-র সাফল্য অস্বীকার করার উপায় নেই।
৪১ গোল।
বড় ম্যাচে গোল।
Manchester City-র বিরুদ্ধে দুই leg-এই গোল।
দীর্ঘ চোটের পরেও অসাধারণ আক্রমণাত্মক অবদান।
Barcelona Spanish Super Cup-ও জিতেছিল।
কিন্তু ব্যর্থতাও আছে।
La Liga হার।
Copa del Rey final হার।
Champions League quarter-final থেকে বিদায়।
Atlético-র বিরুদ্ধে বারবার সমস্যায় পড়া।
শারীরিক সমস্যার কারণে ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়া।
আর সবচেয়ে বড়—
Messi-র পুরোনো central role-এর উপর Barcelona-র অতিরিক্ত নির্ভরতা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে না পারা।
২৩. আমার কাছে ২০১৩–১৪-এর সবচেয়ে বড় TECHNICAL LESSON
২০১২ সালের Messi-কে দেখলে মনে হতো—
তিনি যেকোনো defensive problem-এর উত্তর খুঁজে পাবেন।
২০১৪ সালের Messi-কে দেখে বোঝা গেল—
কোনও player-এর পক্ষেই সব problem একা solve করা সম্ভব নয়।
বিশেষ করে যখন—
প্রতিপক্ষের রক্ষণ আরও সংগঠিত।
নিজের দল আগের মতো ছন্দে নেই।
শরীর পুরোপুরি সুস্থ নয়।
আর নিজের উপর আক্রমণের অনেকগুলো দায়িত্ব।
এই মরশুমে Messi-র খেলার সীমাবদ্ধতা যতটা দেখা গেল, Barcelona-র collective সীমাবদ্ধতাও ততটাই সামনে এল।
তাই আমি এই season-কে শুধু individual decline-এর গল্প হিসেবে দেখতে চাই না।
বরং—
একটা সফল tactical model-এর সীমা প্রকাশ পাওয়ার গল্প।
শেষ কথা — ২০১৩–১৪ কেন MESSI-র CAREER-এ এত গুরুত্বপূর্ণ?
২০১৩–১৪-তে Messi Ballon d’Or জেতেননি।
La Liga জেতেননি।
Champions League জেতেননি।
Copa del Rey-ও জেতেননি।
আর তাঁর গোলসংখ্যাও আগের দুই মরশুমের তুলনায় অনেক কম।
কিন্তু আমার কাছে এই মরশুমের গুরুত্ব অন্য জায়গায়।
কারণ এখানেই একটা পুরোনো ধারণা প্রশ্নের মুখে পড়ল।
Messi যত বেশি বল পাবেন, Barcelona তত ভালো খেলবে—এটা কি সব পরিস্থিতিতে সত্যি?
Messi যত বেশি নিচে নামবেন, তত কি ভালো?
Messi যত বেশি আক্রমণ তৈরি করবেন, তত কি তাঁর গোল করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও অবস্থান বজায় থাকবে?
Messi যদি নিজেই আক্রমণ শুরু করেন, নিজেই ডিফেন্ডার কাটান, নিজেই শেষ করেন—তাহলে তাঁর উপর চাপ কতটা বাড়বে?
আর প্রতিপক্ষ যদি সেই central route বন্ধ করে দেয়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর Guardiola-র peak Barcelona-তে সবসময় খোঁজার দরকার পড়েনি।
কারণ system এত ভালো কাজ করছিল।
কিন্তু ২০১৩–১৪-তে উত্তর খোঁজা জরুরি হয়ে গেল।
আমার কাছে তাই এই মরশুম Messi-র জীবনের একটা সন্ধিক্ষণ।
একদিকে পুরোনো Messi—
অসাধারণ acceleration।
ছোট ছোট touch।
একাই defender কাটানো।
False 9।
অবিশ্বাস্য goalscoring।
অন্যদিকে ভবিষ্যতের Messi—
আরও বেশি খেলা পড়া।
আরও হিসেবি movement।
আরও বিস্তৃত passing।
ডানদিক থেকে আক্রমণ পরিচালনা।
Neymar-এর সঙ্গে combination।
আর একজন প্রকৃত centre-forward-এর সঙ্গে নতুন সম্পর্ক।
২০১৩–১৪-তে এই নতুন Messi পুরোপুরি জন্মাননি।
কিন্তু তাঁর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
২০১২ সালের Messi যেন বলেছিলেন—“আমি ৯১ গোল করতে পারি।”
২০১৩–১৪ যেন তাঁকে নতুন প্রশ্ন করল—“সব সময় নিজে গোল না করেও তুমি কি পুরো আক্রমণকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারো?”
আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমরা পৌঁছে যাব ২০১৪–১৫-তে।
Luis Enrique।
Neymar।
Suárez।
আর Messi-র নতুন ভূমিকা।
সেই Messi শুধু গোল করবেন না।
তিনি ঠিক করবেন—গোলটা কে করবে, কখন করবে এবং কোন রাস্তা দিয়ে করবে।
আমার কাছে ২০১৩–১৪-এর সবচেয়ে বড় তাৎপর্য এখানেই।
এটা Messi-র শেষ হয়ে যাওয়ার গল্প নয়।
এটা Messi-র নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রয়োজন স্পষ্ট হয়ে ওঠার গল্প।
Leave a Reply